জেলার ইতিহাস

নোয়াখালী জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল।[২][৩] এর পূর্বনাম ছিল ভুলুয়া। বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে ধনী জেলা নোয়াখালী।[৪] উপজেলার সংখ্যানুসারে নোয়াখালী বাংলাদেশের একটি ‘এ’ শ্রেণীভুক্ত জেলা।[৫] নোয়াখালী বাংলাদেশের একমাত্র জেলা যার নিজের নামে কোন শহর নেই।

আয়তন ও অবস্থান

নোয়াখালী জেলার মোট আয়তন ৫,২০২.৭০ বর্গকিলোমিটার (২,০০৮.৭৭ বর্গমাইল)।[৬][৭] বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশে ২২°০৭’ থেকে ২৩°০৮’ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°৫৩’ থেকে ৯১°২৭’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ জুড়ে নোয়াখালী জেলার অবস্থান।[৬] রাজধানী ঢাকা থেকে এ জেলার দূরত্ব প্রায় ১৬০ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় সদর থেকে প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার। এ জেলার উত্তরে কুমিল্লা জেলা ও চাঁদপুর জেলা, দক্ষিণে মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগর, পূর্বে চট্টগ্রাম জেলা ও ফেনী জেলা, পশ্চিমে লক্ষ্মীপুর জেলা ও ভোলা জেলা

ইতিহাস

মূল নিবন্ধ: নোয়াখালীর ইতিহাস

প্রতিষ্ঠাকাল

বর্তমান নোয়াখালী জেলা আগে ফেনীলক্ষ্মীপুর এবং নোয়াখালী জেলা নিয়ে একটি বৃহত্তর অঞ্চল ছিল, যা এখনও বৃহত্তর নোয়াখালী নামে পরিচিত।

নোয়াখালী জেলার মর্যাদা পায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী কর্তৃক এদেশে জেলা প্রশাসন প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় থেকেই। জেলা প্রথা প্রবর্তনের পূর্বে এটি বর্তমান কুমিল্লানোয়াখালীফেনীব্রাহ্মণবাড়িয়াচাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরের সমন্বয়ে গঠিত সমতট জনপদের অংশ ছিলো। ১৭৭২ সালে কোম্পানীর গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস এদেশে প্রথম আধুনিক জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্যোগ নেন। তিনি অধুনা বাংলাদেশকে ১৯টি জেলায় বিভক্ত করে প্রতি জেলায় একজন করে কালেক্টর নিয়োগ করেন। এ ১৯টি জেলার একটি ছিল কলিন্দা। এ জেলাটি গঠিত হয়েছিল মূলতঃ নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে। কিন্ত ১৭৭৩ সালে জেলা প্রথা প্রত্যাহার করা হয় এবং প্রদেশ প্রথা প্রবর্তন করে জেলাগুলোকে করা হয় প্রদেশের অধীনস্থ অফিস। ১৭৮৭ সালে পুনরায় জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় এবং এবার বর্তমান বাংলাদেশকে ১৪টি জেলায় ভাগ করা হয়। এ ১৪টির মধ্যেও ভুলুয়া নামে নোয়াখালী অঞ্চলে একটি জেলা ছিল। পরে ১৭৯২ সালে ত্রিপুরা (বর্তমান কুমিল্লা) নামে একটি নতুন জেলা সৃষ্টি করে ভুলুয়াকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তৎকালে হাতিয়া উপজেলা ব্যতীত নোয়াখালীর মূল ভূখণ্ড, লক্ষ্মীপুরফেনী এবং চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ নিয়ে ছিল ভুলুয়া পরগনা। ১৮২১ সাল পর্যন্ত ভুলুয়া (বর্তমান নোয়াখালী) ত্রিপুরা জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তীতে, ১৮২১ সালে ভুলুয়া নামে স্বতন্ত্র জেলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ অঞ্চলকে ত্রিপুরা জেলা হতে আলাদা করা হয়। ১৮৬৮ সালে ভুলুয়া জেলাকে নোয়াখালী জেলা নামকরণ করা হয়।

নামকরণ

নোয়াখালী জেলার প্রাচীন নাম ছিল ভুলুয়া। নোয়াখালী সদর থানার আদি নাম সুধারাম। ইতিহাসবিদদের মতে একবার ত্রিপুরার পাহাড় থেকে প্রবাহিত ডাকাতিয়া নদীর জলে ভুলুয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভয়াবহভাবে প্লাবিত হয় ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় হিসাবে ১৬৬০ সালে একটি বিশাল খাল খনন করা হয়, যা পানির প্রবাহকে ডাকাতিয়া নদী হতে রামগঞ্জ, সোনাইমুড়ি ও চৌমুহনী হয়ে মেঘনা এবং ফেনী নদীর দিকে প্রবাহিত করে। এই বিশাল নতুন খালকে নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় নোয়া (নতুন) খাল বলা হত, এর ফলে অঞ্চলটি একসময়ে লোকের মুখেমুখে পরিবর্তিত হয়ে নোয়াখালী হিসাবে পরিচিতি লাভ করতে শুরু করে।[৮]

সাধারণ ইতিহাস

নোয়াখালীর ইতিহাসের অন্যতম ঘটনা ১৮৩০ সালে নোয়াখালীর জনগণের ওয়াহাবি আন্দোলন ও ১৯২০ সালের খিলাফত আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ। ১৯৪৬ সালে ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংগঠিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় নোয়াখালীর হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের নির্মম নির্যাতন নেমে আসে, যা নোয়াখালী দাঙ্গা নামে পরিচিত। এই সময় মহাত্মা গান্ধী দাঙ্গা পরবর্তী পরিস্থিতি সরজমিনে দেখার জন্য নোয়াখালী জেলা ভ্রমণ করেন। বর্তমানে সোনাইমুড়ি উপজেলার জয়াগ নামক স্থানে গান্ধীজির নামে একটি আশ্রম রয়েছে, যা গান্ধী আশ্রম নামে পরিচিত।

নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী মহকুমা নিয়ে নোয়াখালী জেলা চট্টগ্রাম বিভাগের অর্ন্তভূক্ত একটি বিশাল জেলা হিসেবে পরিচালনা হয়ে আসছিল। ১৯৮৪ সালে সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক সকল মহকুমাকে জেলায় রূপান্তর করা হলে লক্ষ্মীপুর ও ফেনী জেলা আলাদা হয়ে যায়। শুধুমাত্র নোয়াখালী মহকুমা নিয়ে নোয়াখালী জেলা পুনর্গঠিত হয়। তখন এ জেলায় উপজেলা ছিল ছয়টি। পরবর্তীতে আরো তিনটি উপজেলার সৃষ্টি করা হয়। হাতিয়া উপজেলার কিছু অংশ জেলার মূল ভূখণ্ডের সাথে সংযুক্ত থাকলেও বৃহত্তর অংশ (মূল হাতিয়া) এর চতুর্দিকে মেঘনা নদী দ্বারা বেষ্টিত একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা।[৮]

নোয়াখালীর শহর

মূল নিবন্ধ: মাইজদী

নোয়াখালী বাংলাদেশের একমাত্র জেলা যার নিজ নামে কোন শহর নেই। নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদী নামে পরিচিত। ১৯৪৮ সালে যখন উপজেলা সদর দফতর মেঘনা গর্ভে বিলীন হয়ে যায়, তখন তা ৮ কিলোমিটার উত্তরে সরিয়ে ১৯৫০ সালে অস্থায়ীভাবে মাইজদীতে স্থানান্তর করা হয়। ব্রিটিশদের পরিকল্পনায় নতুন করে এ শহরের পত্তন হয়। নোয়াখালী শহর যখন ভেঙ্গে যাচ্ছিল তখন মাইজদী মৌজায় ধান ক্ষেত আর খোলা প্রান্তরে পুরাতন শহরের ভাঙ্গা অফিস আদালতগুলো এখানে এনে স্থাপন করা হয় এবং ১৯৫৩ সালে শহরের পুরনো এলাকা কালিতারা, সোনাপুর ও মাইজদীসহ কাদির হানিফ ইউনিয়নের কয়েকটি মৌজা নিয়ে গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে নোয়াখালী পৌর এলাকা ঘোষণা করা হয়। শহরের প্রাণ কেন্দ্রে প্রায় ষোল একর জায়গা জুড়ে কাটা হয় এক বিশাল দীঘি। লোক মুখে প্রচলিত হয় বড় দীঘি নামে। সে দীঘির চতুর্দিকে চক্রাকারে বানানো হয় ইট সুরকীর রাস্তা। সে রাস্তাকে ঘিরে বাংলো আকৃতিতে তৈরী হয় সরকারি সব দপ্তর। এই দীঘিটি ব্যবহৃত হত মূলতঃ শহরের জলাধার হিসেবে, দীঘিতে পাম্প লাগিয়ে বিভিন্ন সরকারি অফিস-আদালত এবং আবাসিক এলাকায় পানি সরবরাহ করা হত। মাইজদী শহর স্থানান্তর করলেও সুদীর্ঘ প্রায় একযুগ পর্যন্ত মাইজদীকে নোয়াখালী জেলার সদরদপ্তর হিসেবে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি বিতর্কিত অবস্থায় ছিল। অবশেষে ১৯৬২ সালে মাইজদীকে নোয়াখালী জেলার স্থায়ী সদর দপ্তর হিসাবে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।

চৌমুহনী নোয়াখালীর আরেকটি ব্যস্ত শহর ও বাণিজ্য কেন্দ্র, যা একসময়ে মুদ্রণ ও প্রকাশনা ব্যবসার জন্য বিখ্যাত ছিল।

মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি

১৯৭১ সালের ২২ এপ্রিল পাকবাহিনী নোয়াখালী সদর উপজেলায় প্রবেশ করে। ১১ মে পাকবাহিনী হাতিয়া শহর আক্রমণ করে। তারা এ উপজেলার আফাজিয়া বাজারে ৬ জনকে এবং ওছখালি বাজারে ২ জনকে গুলি করে হত্যা করে। ১৫ জুন জেলার সোনাপুর আহমদিয়া মডেল হাইস্কুল প্রাঙ্গণে পাকবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াইয়ে ৭০ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। ১৮ জুন পাকবাহিনী সদর উপজেলার সোনাপুর এলাকার শ্রীপুর গ্রামে ৭০ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ২ জুলাই মুক্তিযোদ্ধারা বেগমগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের রাজাকার ক্যাম্প আক্রমণ করে। ১৯ আগস্ট পাকবাহিনী বেগমগঞ্জের গোপালপুর ইউনিয়নের নয়াহাট বাজারে মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রায় অর্ধশতাধিক লোককে হত্যা করে। ৪ সেপ্টেম্বর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাঞ্ছারাম রোডের স্লুইসগেটের পূর্বপাশে পাকবাহিনী ও রাজাকারদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের এক লড়াইয়ে ৬ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। পরবর্তীতে এ উপজেলায় পাকবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকটি খণ্ড লড়াইয়ে সদর বিএলএফ কমান্ডার অহিদুর রহমান অদুদসহ ৭ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। ১৭ অক্টোবর মুক্তিযোদ্ধারা কবিরহাট উপজেলার রাজাকার জলিলের বাড়িতে হামলা করলে জলিলসহ তার কয়েকজন সহযোগী নিহত হয়। এরপর মুক্তিযোদ্ধারা সেনবাগ উপজেলার ডোমনাকান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবস্থিত পাকবাহিনীর ক্যাম্প আক্রমণ করে। উক্ত লড়াইয়ে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।[৬] নোয়াখালী জেলা স্বাধীন হয় ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর।

মোহাম্মদ রুহুল আমিন (১৯৩৫ – ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন শহিদ মুক্তিযোদ্ধা। তিনি সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ এর মধ্যে একজন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান “বীরশ্রেষ্ঠ” উপাধিতে ভূষিত করা হয় তিনি তাদের অন্যতম। মোহাম্মদ রুহুল আমিন ১৯৩৫ সালে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার বাঘপাঁচড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের মার্চে রুহুল আমিন চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন৷ একদিন সবার অলক্ষ্যে সকলের চোখকে ফাঁকি দিয়ে বের হয়ে পড়েন নৌঘাঁটি থেকে৷ পালিয়ে সীমান্ত পার হয়ে তিনি চলে যান ত্রিপুরা৷ যোগ দেন ২ নং সেক্টরে৷ মেজর খালেদ মোশাররফ এর নেতৃত্বে ২ নং সেক্টরে তিনি সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন ।মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন

  • গণকবর: ১টি (কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ১৪নং স্লুইসগেট সংলগ্ন এলাকা)
  • স্মৃতিস্তম্ভ: ৩টি (বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী, সোনাইমুড়ি উপজেলার সোনাপুর এবং নোয়াখালী জেলা সদরের পিটিআই প্রাঙ্গণ)
  • বধ্যভূমি: ১টি (কবিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের ডোবা)[৬]

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ

নোয়াখালী ৯টি উপজেলা, ১০টি থানা, ৮টি পৌরসভা, ৯৩টি ইউনিয়ন, ৮৮২টি মৌজা, ৯৬৭টি গ্রাম ও ৬টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত।[৯]

উপজেলাসমূহ

নোয়াখালী জেলায় মোট ৯টি উপজেলা রয়েছে। উপজেলাগুলো হল:[১০]

ক্রম নংউপজেলাআয়তন[৬]
(বর্গ কিলোমিটারে)
প্রশাসনিক থানাআওতাধীন এলাকাসমূহ
০১কবিরহাট১৬০.৪৩কবিরহাটপৌরসভা (১টি): কবিরহাট
ইউনিয়ন (৭টি): নরোত্তমপুরসুন্দলপুরধানসিঁড়িঘোষবাগচাপরাশিরহাটধানশালিক এবং বাটইয়া
০২কোম্পানীগঞ্জ৩৮৬কোম্পানীগঞ্জপৌরসভা (১টি): বসুরহাট
ইউনিয়ন (৮টি): সিরাজপুরচর পার্বতীচর হাজারীচর কাঁকড়াচর ফকিরারামপুরমুছাপুর এবং চর এলাহী
০৩চাটখিল১৩৩.৮৯চাটখিলপৌরসভা (১টি): চাটখিল
ইউনিয়ন (৯টি): সাহাপুররামনারায়ণপুরপরকোটবদলকোটমোহাম্মদপুরপাঁচগাঁওহাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগনোয়াখলা এবং খিলপাড়া
০৪নোয়াখালী সদর৩৩৬.২১সুধারামপৌরসভা (১টি): নোয়াখালী
ইউনিয়ন (১৩টি): চর মটুয়াদাদপু্রনোয়ান্নইকাদির হানিফবিনোদপুরনোয়াখালীধর্মপুরএওজবালিয়াকালাদরপঅশ্বদিয়ানিয়াজপুরপূর্ব চর মটুয়া এবং আণ্ডারচর
০৫বেগমগঞ্জ২৩৭.৮২বেগমগঞ্জপৌরসভা (১টি): চৌমুহনী
ইউনিয়ন (১৬টি): আমানউল্যাপুরগোপালপুরজিরতলীআলাইয়ারপুরছয়ানীরাজগঞ্জএকলাশপুরবেগমগঞ্জমিরওয়ারিশপুরনরোত্তমপুরদুর্গাপুরকুতুবপুররসুলপুরহাজীপুরশরীফপুর এবং কাদিরপুর
০৬সুবর্ণচর৫৭৬.১৪সুবর্ণচরইউনিয়ন (৮টি): চর জব্বরচর বাটাচর ক্লার্কচর ওয়াপদাচর জুবলীচর আমানউল্যাপূর্ব চর বাটা এবং মোহাম্মদপুর
০৭সেনবাগ১৫৯.৩৬সেনবাগপৌরসভা (১টি): সেনবাগ
ইউনিয়ন (৯টি): ছাতারপাইয়াকেশারপাড়ডুমুরুয়াকাদরাঅর্জুনতলাকাবিলপুরমোহাম্মদপুরবিজবাগ এবং নবীপুর
০৮সোনাইমুড়ি১৭০.৪২সোনাইমুড়িপৌরসভা (১টি): সোনাইমুড়ি
ইউনিয়ন (১০টি): জয়াগনদনাচাষীরহাটবারগাঁওঅম্বরনগরনাটেশ্বরবজরাসোনাপুরদেওটি এবং আমিশাপাড়া
০৯হাতিয়া২১০০হাতিয়াপৌরসভা (১টি): হাতিয়া
ইউনিয়ন (১১টি): হরণীচানন্দীসুখচরনলচিরাচর ঈশ্বর (ভাসানচর ব্যতীত), চর কিংতমরদ্দিসোনাদিয়াবুড়িরচরজাহাজমারা এবং নিঝুমদ্বীপ
ভাসানচরইউনিয়ন (১টির অংশ): চর ঈশ্বর ইউনিয়ন এর ভাসানচর

সংসদীয় আসন

সংসদীয় আসনজাতীয় নির্বাচনী এলাকা[১১]সংসদ সদস্য[১২][১৩][১৪][১৫][১৬]রাজনৈতিক দল
২৬৮ নোয়াখালী-১চাটখিল উপজেলা এবং সোনাইমুড়ি উপজেলা (বারগাঁওঅম্বরনগর ও নাটেশ্বর ইউনিয়ন ব্যতীত)শূণ্য
২৬৯ নোয়াখালী-২সোনাইমুড়ি উপজেলার বারগাঁওঅম্বরনগর ও নাটেশ্বর ইউনিয়ন এবং সেনবাগ উপজেলাশূণ্য
২৭০ নোয়াখালী-৩বেগমগঞ্জ উপজেলাশূণ্য
২৭১ নোয়াখালী-৪নোয়াখালী সদর উপজেলা এবং সুবর্ণচর উপজেলাশূণ্য
২৭২ নোয়াখালী-৫কবিরহাট উপজেলা এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাশূণ্য
২৭৩ নোয়াখালী-৬হাতিয়া উপজেলাশূণ্য

জনসংখ্যা

২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী নোয়াখালী জেলার মোট জনসংখ্যা ৩৬,২৫,৪৪২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২৫,৩৭,৮০৯ জন এবং মহিলা ১০,৮৭,৬৩৩ জন।[১]

নোয়াখালী জেলায় ধর্মবিশ্বাস (২০২২ সাল অনুযায়ী) [১৭]
ধর্মশতাংশ
ইসলাম  ৯৫.৮৯%
হিন্দু  ৪.০৬%
অন্যান্য  ০.০৫%

ধর্মবিশ্বাস অনুসারে এ জেলার মোট জনসংখ্যার ৯৫.৮৯% মুসলিম, ৪.০৬% হিন্দু এবং ০.০৫% অন্যান্য ধর্মের অনুসারী।

শিক্ষা ব্যবস্থা

নোয়াখালী জেলার সাক্ষরতার হার ৭৫.৫২%।[৬] এ জেলায় রয়েছে:[১]

  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় : ১টি
  • মেডিকেল কলেজ : ১টি (সরকারি)
  • মেডিকেল ট্রেনিং স্কুল : ৫টি (১টি সরকারি)
  • নাসিং কলেজ : ৩টি (১টি সরকারি)
  • আইন কলেজ : টি (সরকারি)
  • টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট :২টি (১টি সরকারি)
  • টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ : ১টি (সরকারি)
  • পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট :১টি(বেসরকারি)
  • কলেজ : ৩৫টি (৮টি সরকারি)
  • মাদ্রাসা : ১৬১টি
  • মাধ্যমিক বিদ্যালয় : ২৮৯টি (১২টি সরকারি)
  • কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান : ৫টি
  • কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র : ২টি
  • প্রাথমিক বিদ্যালয় : ১২৪৩টি

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মূল নিবন্ধ: নোয়াখালী জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা

অর্থনীতি

নোয়াখালী জেলার অর্থনীতি মূলত কৃষি নির্ভর। আঞ্চলিক জিডিপির প্রায় ৪০% কৃষি খাত থেকে আসে এবং জেলার ৮০ ভাগ লোক এই পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট। কৃষির মধ্যে মূলত মৎস্য চাষ ও মৎস্য আহরণের সাথে সবচেয়ে বেশি মানুষ জড়িত। বছরজুড়ে নৌকা তৈরি ও মেরামত, মাছ ধরা, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন, শুটকি উৎপাদন, জাল মেরামত এর সাথে প্রায় ৬০-৭০ ভাগ শ্রমজীবী জড়িত থাকে। নিম্নভূমি অঞ্চল হওয়াতে এই জেলায় প্রচুর মৎস্য চাষ হয়ে থাকে, যা এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা পালন করে। ফসল উৎপাদন মূলত বছরে একবারই হয়। শীত মৌসুমে জেলার সর্বত্র বিশেষ করে দক্ষিণের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে রকমারি ফসলের চাষ হয়। এছাড়াও বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে ও দ্বীপগুলোতে গরু, মহিষ, ছাগল এবং ভেড়া পালন ব্যাপকতা লাভ করেছে।

নোয়াখালী জেলায় শিল্প কারখানা তেমনভাবে গড়ে উঠেনি, কিন্তু নোয়াখালী জেলার অনেক ব্যক্তি দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসাবে সুনাম অর্জন করেছেন। তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বড় বড় শিল্প কারখানা গড়ে তুলেছেন। নোয়াখালীর মানুষ মূলত কাজের জন্য দেশের বড় শহরগুলো এবং বিদেশে ব্যাপকভাবে গমন করেন। জেলার বিপুল সংখ্যক মানুষ মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, দক্ষিণ আফ্রিকা সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছেন। বাংলাদেশের শীর্ষ রেমিট্যান্স পাঠানো জেলাগুলোর মধ্যে নোয়াখালী জেলা গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রয়েছে।

জেলার মোট আয়ের অন্যান্য খাতে আয়ের উৎসগুলোর মধ্যে অ-কৃষি শ্রম ৩.৪৩%, শিল্প ০.৮৪%, বাণিজ্য ১৪.৭৪%, পরিবহন খাত ৩.৮৩%, চাকুরি ১৬.১১%, নির্মাণখাত ১.৪৯%, রেমিট্যান্স ৭.৯৭% এবং অন্যান্য ১০.৫৮% অবদান রাখছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থা

সড়কপথ

নোয়াখালী জেলায় যোগাযোগের প্রধান সড়ক ঢাকা-নোয়াখালী চার-লেন মহাসড়ক এবং চট্টগ্রাম-নোয়াখালী চার-লেন মহাসড়ক। সব ধরনের যানবাহনে যোগাযোগ করা যায়। এছাড়া এ জেলায় রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাও রয়েছে।[১৮]

ধর্মীয় উপাসনালয়

নলুয়া মিঞা বাড়ি জামে মসজিদ, সেনবাগ

নোয়াখালী জেলায় ৪১৫৯টি মসজিদ, ৪৯৭টি ঈদগাহ, ১২০৫টি মন্দির ও মঠ-আশ্রম, ৫ টি বৌদ্ধ বিহার এবং ১ ২টি ক্যাথলিক খ্রিস্টান গির্জা রয়েছে।

নদ-নদী

নোয়াখালী জেলার প্রধান নদী মেঘনা। এছাড়াও উল্লেখযোগ্য নদীর মধ্যে ডাকাতিয়া ও ছোট ফেনী নদী অন্যতম।[১৯]

জলবায়ু

বছরব্যাপী গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪.৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪.৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস। বছরে গড় বৃষ্টিপাত ৩৩০২ মিলিমিটার।[৭]

প্রাকৃতিক দুর্যোগ

১৯৭০ সালের পর থেকে নোয়াখালী জেলা বহুবার ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, টর্নেডো, সাইক্লোন ইত্যাদি বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে পতিত হয়। ১৯৭০ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ১০ লক্ষ লোকের প্রাণহানি ঘটে, যার মধ্যে নোয়াখালী জেলার অনেকে ছিলেন।

দর্শনীয় স্থানসমূহ

বজরা শাহী মসজিদ‚ নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় অবস্থিত মোঘল স্থাপনা

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব

নোয়াখালী বিভাগ চাই আন্দোলন

১৯৯৪ সালে মুশফিক কমিটি নোয়াখালীকে বিভাগ করার দাবি তোলে। নোয়াখালী এলাকার বহু বছরের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২২ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে একটি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।[২১]

এতে নোয়াখালীর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র অধিকার পরিষদ, সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, নোয়াখালী সরকারি কলেজ, চৌমুহনী সরকারি সালেহ আহমেদ কলেজ ও সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।[২২]

বক্তারা বলেন, নোয়াখালী একটি প্রাচীন জেলা, যার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। তারা দাবি করেন, নোয়াখালী বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতির ৩৫% নিয়ন্ত্রণ করে এবং ৭ লক্ষাধিক প্রবাসীর রেমিট্যান্সে দেশের অর্থনীতি সচল রয়েছে।[২৩]

তারা আরও বলেন, নোয়াখালীর গণমানুষের অনুমতি বা গণশুনানি ছাড়া যদি কুমিল্লার সাথে নোয়াখালীকে সংযুক্ত করে বিভাগ ঘোষণা করা হয়, তাহলে নোয়াখালীবাসী তা মেনে নেবে না। প্রয়োজনে তারা চট্টগ্রামের সাথেই থাকতে চান, তবুও কুমিল্লার সাথে বিভাগে যেতে চান না।[২৪]

মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।[২৫]